নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
ইমেজ: সংগৃহীত
লিবিয়া থেকে নৌকায় করে সাগরপথে ইউরোপ যাত্রাকালে তিউনিসীয় উপকূলে নৌ-দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি আট ও এক পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছে। মৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে পাঁচ জন মাদারীপুর ও তিন জন গোপালগঞ্জ জেলার। ওই দুর্ঘটনায় ২৭ বাংলাদেশি নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রণালয় জানায়, ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি অভিবাসী দল নৌকায় করে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টায় লিবিয়ার জুয়ারা উপকূল থেকে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। যাত্রাপথে নৌকাটি তিউনিসীয় উপকূলে গেলে মধ্য রাত সাড়ে চারটার দিকে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। নৌকাটিতে মোট ৫৩ জনের মধ্যে ৫২ জন যাত্রী এবং একজন চালক ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর তাদের মধ্যে ৪৪ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে ২৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে পাকিস্তানের আট জন, সিরিয়ার পাঁচ জন, মিসরের তিন জন ও নৌকা চালক রয়েছেন (মিশরীয় নাগরিক)।
ওই ঘটনায় নৌকায় থাকা ৯ জন যাত্রী মারা গেছেন। তাদের মধ্যে আট জন বাংলাদেশি নাগরিক। নিহত অপর ব্যক্তি পাকিস্তানের নাগরিক।
নিহত বাংলাদেশিরা
১. সজল, গ্রাম- শেনদিয়া, ডাক- খালিয়া, উপজেলা: রাজৈর, জেলা: মাদারীপুর।
২. নয়ন বিশ্বাস, বাবা: পরিতোষ বিশ্বাস, গ্রাম: কদমবাড়ি উত্তরপাড়া, ডাকঘর: কদমবাড়ি, উপজেলা: রাজৈর, জেলা: মাদারীপুর।
৩. মামুন সেখ, গ্রাম: সরমঙ্গল, ডাকঘর: খালিয়া (টেকেরহাট ১ নম্বর ব্রিজ), উপজেলা : রাজৈর, জেলা: মাদারীপুর।
৪. কাজী সজীব, বাবা: কাজী মিজানুর, মা: রেণু বেগম, গ্রাম: তেলিকান্দি, ইউনিয়ন : বাজিতপুর নতুন বাজার, উপজেলা: রাজৈর, জেলা: মাদারীপুর।
৫. কায়সার, গ্রাম: কেশরদিয়া, ইউনিয়ন: কবিরাজপুর, উপজেলা: রাজৈর, জেলা: মাদারীপুর।
৬. রিফাত, বাবা: দাদন, গ্রাম: বড়দিয়া, ইউনিয়ন: রাগদী, উপজেলা: মুকসুদপুর, জেলা: গোপালগঞ্জ।
৭. রাসেল, গ্রাম: ফতেহপট্রি, ইউনিয়ন: দিগনগর, উপজেলা: মুকসুদপুর, জেলা: গোপালগঞ্জ।
৮. ইমরুল কায়েস আপন, বাবা: মো. পান্নু শেখ, মা: কামরুন্নাহার কেয়া, গ্রাম: গয়লাকান্দি, ইউনিয়ন: গঙ্গারামপুর গোহালা, উপজেলা : মুকসুদপুর, জেলা : গোপালগঞ্জ
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এছাড়া মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার আমগ্রাম ইউনিয়নের মনোরঞ্জন সরকারের ছেলে মনতোষ সরকারসহ পাসপোর্টবিহীন বাংলাদেশি আরও সাত জন।
তিউনিসিয়া উপকূলে নৌ-দুর্ঘটনায় উদ্ধার বাংলাদেশিদের সার্বিক কল্যাণ ও মৃতদের তথ্য নিশ্চিত করতে লিবিয়ার ত্রিপোলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) রাসেল মিয়ার নেতৃত্বে একটি দল তিউনিসিয়ার জারজিস শহরে অবস্থান করছেন। নিহত বাংলাদেশিদের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত এবং স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের মৃতদেহ দেশে প্রেরণের জন্য দূতাবাস কাজ করছে।


No comments:
Post a Comment